মোঃ আরিফুল ইসলাম মিল্টন, জেলা প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা যুবদলের আসন্ন কমিটিতে তৃণমূলের পছন্দের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছেন সাবেক ছাত্রনেতা রাসেল শিকদার। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথের লড়াকু এই ত্যাগী নেতাকে উপজেলা যুবদলের শীর্ষ পদে (সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক) দেখতে চান স্থানীয় তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। দল পুনর্গঠনের এই সময়ে রাসেল শিকদারের মতো পরীক্ষিত নেতাকে নেতৃত্বে আনলে উপজেলা যুবদল আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন তারা।
রাসেল শিকদারের পক্ষে কেন তৃণমূল একাট্টা—এই বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলার একাধিক যুবদল ও সাবেক ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা স্বতঃস্ফূর্ত মতামত ব্যক্ত করেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলেন, "বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ দলের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে রাসেল শিকদার ভাইকে আমরা সবসময় রাজপথে পাশে পেয়েছি। দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এবং এখনো অসংখ্য মিথ্যা ও গায়েবি মামলার আসামি হয়ে লড়ে যাচ্ছেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, উপজেলায় তাঁর মতো ত্যাগী, কর্মীবান্ধব এবং সাহসী নেতা এই মুহূর্তে দ্বিতীয় কেউ নেই। তাই আমাদের জোর দাবি—কেন্দ্রীয় যুবদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যেন তৃণমূলের সেন্টিমেন্টকে মূল্যায়ন করে রাসেল শিকদার ভাইকে নাজিরপুর উপজেলা যুবদলের শীর্ষ পদের দায়িত্ব প্রদান করেন।
নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকা রাসেল শিকদার একজন সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং তৃণমূলের দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "আমি ছাত্ররাজনীতি থেকেই দলের আদর্শকে ধারণ করে আসছি। পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। দলের দুঃসময়ে কোনো লোভ-লালসা আমাকে রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি।
পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "আমার বাবা মরহুম মোঃ আনোয়ার হোসেন সিকদার নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের অত্যন্ত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর আমি নিজে উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে অত্যন্ত সফলতার সাথে নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সেবা করেছি। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে আমার ভূমিকা ও ত্যাগ কেমন ছিল, তা আমার নাজিরপুরের তৃণমূলের ভাইরাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন।"
সবশেষে তিনি বলেন, "ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে দলের স্বার্থ আমার কাছে বড়। কেন্দ্রীয় যুবদল যদি আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করে আমাকে কোনো শীর্ষ দায়িত্ব দেয়, তবে সবাইকে সাথে নিয়ে, দল-মত নির্বিশেষে নাজিরপুর উপজেলা যুবদলকে পিরোজপুর জেলার একটি মডেল ও শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।