মুহাম্মদ উজ্জ্বল খান, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের জরুরি সংস্কার ও পুরনো তার পরিবর্তন কাজের জন্য আজ সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ধামরাই জোনাল অফিস থেকে জারিকৃত এক অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই লোডশেডল বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে উপজেলার একটি বড় অংশের আবাসিক গ্রাহক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোতে সাময়িক ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ধামরাই জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) লিপিয়া খাতুন স্বাক্ষরিত ওই জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ধামরাই-১ এর অধীনস্থ ৩৩ কেভি (KV) লাইনের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ তারগুলো পরিবর্তন করে নতুন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তার বসানোর কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উন্নয়নমূলক সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।
সংস্কার কাজের সুবিধার্থে আজ ১৮ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, রোজ সোমবার সকাল ০৮:০০ ঘটিকা হতে বিকেল ০৫:০০ ঘটিকা পর্যন্ত ভাড়ারিয়া ৩৩ কেভি (একমী) ও ধামরাই উপকেন্দ্রের আওতাধীন বেশ কিছু এলাকায় সব ধরণের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ধামরাই উপকেন্দ্রের অধীনে থাকা ১, ৩, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ফিডারের আওতাভুক্ত সকল এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। বিদ্যুৎহীন থাকা প্রধান প্রধান এলাকাগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
আবাসিক ও গ্রাম এলাকা: ছোট চন্দ্রাইল, বড় চন্দ্রাইল, খাত্রা, ছয়বাড়ীয়া, বাড়ীগাঁও, বাশাইল, কুল্লা, জলসীন, তালতলা, ইসলামপুর এবং কুমরাইল।
টাউন ও মডেল এলাকা: আমিন মডেল টাউন, বরাতনগর, বরাত সেন্টার, ধানসিঁড়ি আবাসিক এলাকা, নতুন দক্ষিণপাড়া এবং ঢুলিভিটা এলাকা।
গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি স্থাপনা: ধামরাই হাসপাতাল রোড, ধামরাই থানা কমপ্লেক্স এবং ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
বিশেষ করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতাল রোডের ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর বা আইপিএস-এর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
গ্রীষ্মের এই সময়ে টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার ঘোষণায় স্থানীয় সাধারণ গ্রাহক এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়া, পানির সংকট এবং অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, সঞ্চালন লাইনের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টিতে তার ছিঁড়ে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এই মুহূর্তে তার পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে সম্মানিত গ্রাহকদের সাময়িক এই অনাকাঙ্ক্ষিত অসুবিধার জন্য ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, কারিগরি দলের সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার পরিবর্তনের কাজ শেষ করার জন্য মাঠে নিয়োজিত আছেন। নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হওয়া মাত্রই কোনো রকম বিলম্ব না করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল বিদ্যুৎ উন্নয়ন কাজের স্বার্থে গ্রাহকদের এই সাময়িক পরিস্থিতি ধৈর্য সহকারে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন।