আঃ হালিম আতিক, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
ঘাটাইল, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিখোঁজের তিনদিন পর সূচনা (১৮) নামের এক নববধূর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ মে, ২০২৬) বিকেলে ঘাটাইল উপজেলা সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তার অচেতন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সূচনা ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের আইনপুর গ্রামের মোঃ সোরহাব আলীর মেয়ে। মাত্র এক মাস আগে বিয়ে হওয়া এই নববধূর আকস্মিক মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করছে তার পরিবার।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র এক মাস আগে মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের মাইজবাড়ী গ্রামের আলম (২২)-এর সঙ্গে সূচনার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের মাস খানেকের মাথায় গত ১৪ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে স্বামীর বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন সূচনা। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, ঘাটাইল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের সত্তুরবাড়ি এলাকার সরোয়ারের ছেলে ও সূচনার কথিত প্রেমিক সাউয়াল (২০) একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এসে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, সূচনা নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর সাউয়ালের আপন চাচা ও সংগ্রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় শনিবার (১৬ মে) রাতে সাউয়াল ও সূচনাকে ঢাকার অজ্ঞাত স্থান থেকে এনে ঘাটাইলের একটি ভাড়া বাসায় রাখা হয়। আজ রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিকভাবে বসে একটি সমঝোতা বা সমাধানের কথা ছিল।
কিন্তু সেই বৈঠক হওয়ার আগেই রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই ভাড়া বাসা থেকে সূচনাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে আসার পর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রেমিক সাউয়াল ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে।
নিহত সূচনার পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু বা আত্মহত্যা নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রেমিক সাউয়াল ও তার সহযোগীরা মিলে সূচনাকে শ্বাসরোধ করে বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোকছেদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।