ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
আধ্যাত্মিক চেতনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় এক বিশেষ জিকির, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। হযরতুল আল্লামা মাওলানা আলমগীর হোসেন চিশতী আল নিজামী (র.)-এর খেলাফত প্রাপ্ত বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, শাহ সুফি মোহাম্মদ মনির হোসেন বরিশালী পীর সাহেবের উদ্যোগে এই আধ্যাত্মিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি ফুলবাড়ীয়ার ভবানীপুর ইউনিয়নের হাসানের মোড় এলাকায় অবস্থিত পীর সাহেবের নিজস্ব খানকা শরীফে এই বিশাল ধর্মীয় মহাসমাবেশ সম্পন্ন হয়। মাহফিলে ফুলবাড়ীয়া উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও আশেকান-যাকেরান অংশগ্রহণ করেন।
মাহফিলে প্রধান অতিথি ও প্রধান আলোচক হিসেবে মূল্যবান আধ্যাত্মিক বয়ান পেশ করেন শাহ সুফি মোহাম্মদ মনির হোসেন বরিশালী পীর সাহেব। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইসলামের মূল বাণী, তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পীর সাহেব বলেন, "বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে মানুষের অন্তরের শান্তির একমাত্র পথ হলো মহান আল্লাহ তায়ালার জিকির ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় এবং নিয়মিত জিকির-আজকারের কোনো বিকল্প নেই। মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠন ও সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করতে হলে ইসলামের সুমহান আদর্শকে ব্যক্তিজীবনে ধারণ করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, খানকা শরীফ হলো অন্তরের ব্যাধি দূর করার হাসপাতাল। এখান থেকে মানুষ আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে নিজের কলব বা অন্তরকে পবিত্র করে। তিনি তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থেকে দ্বীনের পথে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত দেশবরেণ্য আলেম-ওলামাগণ পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে মানবজীবনে জিকিরের গুরুত্ব, হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহ এবং পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, যে সমাজ বা পরিবারে আল্লাহর জিকির থাকে, সেখানে আল্লাহর রহমত ও বরকত নাজিল হয়।
বয়ান ও আলোচনা পর্ব শেষে মাহফিলে উপস্থিত হাজারো মুসল্লিদের নিয়ে এক আবেগঘন জিকিরের তালিম শুরু হয়। পীর সাহেবের পরিচালনায় ‘আল্লাহু আল্লাহু’ ধ্বনিতে পুরো খানকা শরীফ ও আশপাশের এলাকা এক আধ্যাত্মিক পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে। জিকির শেষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে পবিত্র মিলাদ ও কিয়াম পরিবেশন করা হয়।
মাহফিলের সমাপনী পর্বে এক বিদায়ী ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন শাহ সুফি মোহাম্মদ মনির হোসেন বরিশালী পীর সাহেব। মোনাজাতে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, ঐক্য এবং কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি জানানো হয়। একই সাথে বর্তমান বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের হেফাজত, সকল প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারী থেকে দেশবাসীকে রক্ষা এবং উপস্থিত মুসল্লিদের গুনাহ মাফ ও প্রয়াত পিতামাতার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। মোনাজাতের সময় মুসল্লিদের আমিন আমিন ধ্বনিতে এক কান্নাকাটি ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উক্ত জিকির ও দোয়া মাহফিলে স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো তৌহিদী জনতা উপস্থিত ছিলেন।
খানকা শরীফ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামের এই আলো ছড়িয়ে দিতে এবং সাধারণ মানুষকে জিকিরের সাথে সম্পৃক্ত রাখতে প্রতি ইংরেজি মাসের শেষ বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব পীর সাহেবের এই খানকায় (হাসানের মোড়, ভবানীপুর, ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ) নিয়মিতভাবে জিকিরের তালিম, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। আধ্যাত্মিক এই মজলিসে যেকোনো ধর্মীয় বিষয় বা যোগাযোগের প্রয়োজনে 01883701941 এই নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য খানকা কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।