মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা জেলা প্রতিনিধি
খুলনা--মোংলা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণ--পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীসেবা সম্প্রসারণে নতুন করে দুটি ট্রেন চালুর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে মোংলা--ঢাকা--মোংলা রুটে নতুন একটি কমিউটার ট্রেন চালুর উদ্যোগও রয়েছে। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার জাকির হোসেন জানান, খুলনা-ঢাকা রুটে অতিরিক্ত ট্রেন চালুর বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাবনা এসেছে এবং আগামী দুই--এক মাসের মধ্যে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চলাচলেরত ট্রেন দিয়ে যাত্রীদের চাহিদা পূরণে চাপ তৈরি হচ্ছে, তাই নতুন ট্রেন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলে মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, খুলনা-ঢাকা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর বিষয়টি এখনো চুড়ান্ত না হলেও এটি সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। তিনি জানান, নতুন কোচ সরবরাহ পাওয়া গেলে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। একইসঙ্গে মোংলা-ঢাকা রুটে কমিউটার ট্রেন চালুর প্রস্তাব ও বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেনাপোল--খুলনা রুটের বেতনা কমিউটার এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের মোংলা কমিউটার ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া, ভ্যাট ও উৎসকর পরিশোধে বাধ্য হওয়ার গত ২৭ এপ্রিল পশ্চিমাঞ্চলে রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রেলওয়ে সুত্র জানায়, ঢাকার মিরপুর ভিত্তিক এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন চালিত বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে তিন বছরের জন্য ট্রেন দুটি পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও মাত্র ৩ মাস ১৭ দিনের মাথায় চুক্তির শর্ত ভঙ্গের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর ২৮ এপ্রিল থেকে ট্রেন দুটি পুনরায় সরকারি ব্যবস্হাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। স্টেশন মাষ্টার জাকির হোসেন বলেন,খুলনা-বেনাপোল ও বেনাপোল-মোংলা রুটে বর্তমানে সরকারি ব্যবস্হাপনাতেই ট্রেন চলাচল করছে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, নতুন আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন চালু হলে খুলনা, মোংলা,বেনাপোল সহ দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। এতে যাত্রীসেবা বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক কার্যক্রম অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।