বিশেষ প্রতিবেদন
১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ও অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার নিয়ে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান মে দিবস। বুধবার সকাল থেকেই ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শিল্পনগরীর রাজপথ। নিরাপদ কর্মস্থল ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের দাবিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করে।
শ্রমিক ফেডারেশনের ৮ দফা ইশতেহার
দিবসটি উপলক্ষে গাজীপুর মহানগরে সবচেয়ে বড় শো-ডাউন করে বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মোঃ ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে বের হওয়া র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশ থেকে ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় একটি ৮ দফা দাবি সংবলিত শক্তিশালী ইশতেহার পেশ করা হয়।
ন্যূনতম মজুরি: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সংগতি রেখে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ। নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা: সকল কারখানায় ৬ মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিতকরণ। পেশাগত নিরাপত্তা: কর্মস্থলে জীবনের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান।ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার: গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন ও অবাধে সংগঠন করার অধিকার। ন্যায্য ক্ষতিপূরণ: দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের পরিবারকে আজীবন আয়ের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান। বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন ও শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ দেলোয়ার হোসেন সরকার বলেন:
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা শ্রমিকরা আজ দ্রব্যমূল্যের কশাঘাতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। মালিকপক্ষের মনে রাখা উচিত, শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা কোনো করুণা নয়, এটি তাদের আইনি বাধ্যবাধকতা। বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিউল আলম শিল্প খাতে স্থিতিশীলতার জন্য শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্কের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "আমরা ‘সোনার বাংলা’ গড়তে মালিকদের সাথে ভাতৃত্বের সম্পর্ক চাই, তবে তা শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে হতে হবে।" তিনি শ্রমিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে দ্রুত রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
বিকেল পর্যন্ত গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের খণ্ড খণ্ড মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত থাকে। শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি মানা না হয়, তবে শিল্পাঞ্চলে আরও কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।দিবসটি কেন্দ্র করে গাজীপুর জেলা ও মহানগর পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিগুলো সম্পন্ন হয়েছে।