ফিরোজ কবির উপজেলা প্রতিনিধি সুন্দরগঞ্জ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় খরার প্রভাবে দেখা দিয়েছে সেচ সংকট। বোরো ধানসহ বিভিন্ন আবাদি জমিতে পানির অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ফসল রক্ষায় গ্যাসোলিন (পেট্রোল) চালিত সেচ পাম্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় এখন তাদের ভিড় বাড়ছে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে। তবে চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ কম থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।
সোমবার (২০এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা সেচ পাম্প ও জ্বালানির পাত্র নিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জড়ো হন। অনেক কৃষক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
কৃষক শামীম মিয়া বলেন, এখন বোরো ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। একদিন পরপর জমিতে পানি দিতে না পারলে ধান শুকিয়ে যাবে। কিন্তু সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজন মতো তেল পাচ্ছি না।
একাধিক কৃষক জানান, প্রশাসনের নির্ধারিত সময় ও সীমিত পরিমাণে পেট্রোল বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় কম। ফলে অনেকেই দিনভর অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরছেন।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকা অনুসারে সীমিত পরিমাণে পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সেচ কাজে নিয়োজিত কৃষকদের জন্য আলাদা ফুয়েল কার্ড চালু করা জরুরি। তা না হলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।