নিজস্ব প্রতিবেদক,
গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন রাজাবাড়ী এলাকায় সংরক্ষিত বনের কাঠ নিধন এবং বন কর্মকর্তাদের ভয়াবহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘এশিয়া বার্তা’। অনুসন্ধানে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য ও স-মিল মালিকের ভিডিও স্বীকারোক্তিসহ আজ (০৯ এপ্রিল) গাজীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ পেশ করেছেন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ খাইরুল ইসলাম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্রীপুর থানাধীন রাজাবাড়ী বাজারের মেইন রোড সংলগ্ন এলাকায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মো: রহম আলী ও মো: মনির হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে করাতকল (স-মিল) পরিচালনা করে আসছেন। সেখানে প্রতিদিন সংরক্ষিত বনের গজারি গাছ প্রকাশ্য দিবালোকে চিরাই করা হয়।
এশিয়া বার্তা র অনুসন্ধানী টিমের সংগৃহীত গোপন ক্যামেরার ফুটেজে স-মিল মালিক মনির হোসেনকে বলতে শোনা যায়, গত ৫ এপ্রিল রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল রানা এবং সূর্যনারায়ণপুর বিট কর্মকর্তা ওই স-মিলে উপস্থিত হয়েছিলেন। সে সময় মেশিন জব্দ ও উচ্ছেদ এড়াতে মনির হোসেন রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং ওইদিন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে তাঁর মোট ১ লক্ষ টাকা খরচ হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের ফোন করা হলে তারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন। রেঞ্জ কর্মকর্তা স-মিলে যাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও বিট কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করে না। নিউজটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা স-মিল মালিককে চাপ প্রয়োগ করে একটি মিথ্যা লিখিত বিবৃতি তৈরি করিয়েছেন এবং সংবাদটি ধামাচাপা দিতে এশিয়া বার্তার প্রতিনিধিদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন।
আজ দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ খাইরুল ইসলাম একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র এবং ঘুষ লেনদেনের অডিও-ভিডিও সংবলিত একটি পেনড্রাইভ জমা রাখেন। অভিযোগে অবিলম্বে উক্ত অবৈধ করাতকলটি উচ্ছেদ এবং ঘুষ গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এশিয়া বার্তার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা সাংবাদিকতার নৈতিক জায়গা থেকে তথ্য-প্রমাণসহ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। ভিডিও ফুটেজে স-মিল মালিক নিজেই ঘুষের কথা স্বীকার করেছেন। এখন দেখার বিষয় প্রশাসন এই বনখেকো সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়। সত্যের জয় না হওয়া পর্যন্ত এশিয়া বার্তা এই লড়াই চালিয়ে যাবে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।