নিজস্ব প্রতিবেদক:
- রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতা আসিকুর রহমান সোহাগ ও তার বাবা আনিসুর রহমান আনজুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে উপজেলার ২ নম্বর কিশমত গণকৈড় ইউনিয়নের কয়ামাজমপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ পারভেজ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সোহাগ একাধিক হত্যা মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা (নং-১৪০৮/২০২৪) এবং ধানমন্ডি থানায় আরেকটি হত্যা মামলা (নং-০৩(৪)/২০২২) রয়েছে।
এসব মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি হলেও এখনো গ্রেফতার হননি।
মাসুদ পারভেজ আরও জানান, সোহাগ আগে নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি এলাকায় ফিরে এসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
তিনি বলেন, আনজু ও তার ছেলে সোহাগ স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। ২০২৩ সালে কয়ামাজমপুর হাইস্কুল মাঠে জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা (জিআর নং-১৪৬/২০২৩) হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তারা বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে মারধর, হুমকি, জমি দখল এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিন ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় প্রশাসন ভেকু ভাঙচুর করে এবং দুর্গাপুর থানায় মামলা (নং-০৭/২০২৬) হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সোহাগ ও তার সহযোগীরা এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অপহরণ ও ডাকাতির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত।
একাধিক পুকুর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে।
আলীপুর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনাও তুলে ধরা হয়।
গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়। এছাড়া ৩০ মার্চ এলাকায় যানবাহন আটক করে আতঙ্ক সৃষ্টি করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ রয়েছে, সোহাগ ও তার সহযোগীরা নিয়মিত অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে।
এদিকে, পুকুর ব্যবসায়ী আনোয়ার শাহাদত হোসেন অভিযোগ করেন, তার পুকুরে হামলা চালিয়ে টংঘর ভাঙচুর, মাছের খাবার নষ্ট এবং পুকুর ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারার হুমকিও দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ দ্রুত সোহাগ, আনজু এবং তাদের সহযোগীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তারা বলেন, “এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”