নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের আইন ও বিচার বিভাগের অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ এবং শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে ‘দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা’ নামক একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান। নিজেদের ‘নিবন্ধিত জাতীয় দৈনিক’ দাবি করা এই চক্রটি এবার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে তাদের প্রতারণার জাল আরও বিস্তৃত করেছে।
সাধারণ মানুষ ও মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মনে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য এই চক্রটি একটি কুৎসিত কৌশল বেছে নিয়েছে। তারা তাদের তথাকথিত পত্রিকার উপদেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভোকেট মাহবুজ্জামান চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট আব্দুল কুদ্দুস রেদওয়ানের নাম ব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আড়াল করতে এবং প্রতিনিধিদের ভয় দেখাতে বা আশ্বস্ত করতে তারা এই সম্মানিত আইনজীবীদের নাম ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যা বড় ধরনের আইনি অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে 'বাংলাদেশ প্রতিদিন'-এর মতো জনপ্রিয় একটি জাতীয় দৈনিক বিদ্যমান থাকা অবস্থায় ‘দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা’ নামে অন্য কোনো পত্রিকার নিবন্ধন পাওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। তবুও এই চক্রটি সাধারণ মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। মূলত তারা ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে।
প্রতারক চক্রের মূল হোতা সৈয়দ শিহাব উদ্দিন (নিজেকে সম্পাদক ও প্রকাশক দাবিদার) এবং মোহাম্মদ আব্দুর রউফ (প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)-এর পেশাদারিত্ব নিয়ে উঠেছে চরম প্রশ্ন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তারা যেসব নোটিশ জারি করে, তাতে ভাষা ও ব্যাকরণের কোনো বালাই নেই। দাড়ি-কমা বিহীন ও অসংলগ্ন বাক্যে ভরা সেসব নোটিশ দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে যে, এদের ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সংবাদ সম্পাদনার যোগ্যতা নেই। অথচ এই অযোগ্য ব্যক্তিরাই নিজেদের ‘সম্পাদক’ ও ‘প্রকাশক’ পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকতা পেশাকে কলঙ্কিত করছে। নিজেদের কোনো নিজস্ব সংবাদ বা প্রতিবেদন তৈরির সক্ষমতা না থাকায় তারা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য মিডিয়ার সংবাদ হুবহু কপি করে তাদের পোর্টালে প্রকাশ করছে। অন্যের মেধাস্বত্ব চুরি করে তা নিজেদের নামে চালিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তারা প্রতিনিয়ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে চলেছে। সৈয়দ শিহাব উদ্দিন ও আব্দুর রউফদের মতো অশিক্ষিত ও প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাঁচতে প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই চক্রটি মূলত বিভিন্ন জেলা-উপজেলার প্রতিনিধিদের তাদের গ্রুপে যুক্ত করে সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।